যে বইয়ের ভাষা আজও কেউ পড়তে পারেনি
একটি পুরোনো বই। পাতায় পাতায় অচেনা গাছপালা, নক্ষত্র ও রাশিচক্রের মতো চিত্র, রহস্যময় বৃত্তাকার নকশা, অদ্ভুত জলাধারে মানুষের ছবি। আর সবকিছুর পাশে লেখা এমন এক লিপি, যার অর্থ আজও নিশ্চিতভাবে কেউ উদ্ধার করত
লেখক: পৃথিবীনামা

একটি পুরোনো বই। পাতায় পাতায় অচেনা গাছপালা, নক্ষত্র ও রাশিচক্রের মতো চিত্র, রহস্যময় বৃত্তাকার নকশা, অদ্ভুত জলাধারে মানুষের ছবি। আর সবকিছুর পাশে লেখা এমন এক লিপি, যার অর্থ আজও নিশ্চিতভাবে কেউ উদ্ধার করতে পারেনি।
এটিই Voynich Manuscript, বর্তমানে Beinecke Rare Book & Manuscript Library-তে সংরক্ষিত Beinecke MS 408।
পাণ্ডুলিপিটির সবচেয়ে বড় রহস্য এর লেখা। অক্ষরগুলো দেখতে নিয়মতান্ত্রিক এবং একই ধরনের শব্দ বারবার দেখা যায়, কিন্তু এটি কোন ভাষা, কোনো cipher বা সাংকেতিক লেখা কি না, কিংবা এর অর্থ কী, তার গ্রহণযোগ্য সমাধান এখনো পাওয়া যায়নি। বিংশ শতাব্দীর দক্ষ cryptographer-রাও এটি decipher করার চেষ্টা করে সফল হননি।
তবে বইটি আধুনিক যুগে বানানো নকল, এমন ধারণার পক্ষে প্রমাণ মেলেনি।
University of Arizona-তে করা carbon-14 পরীক্ষায় এর parchment-কে ১৫শ শতাব্দীর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। Yale-এর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত ink ও pigment-ও মধ্যযুগীয় manuscript-এ ব্যবহৃত উপকরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাওয়া গেছে। আধুনিক ink বা pigment ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বইটির ছবিগুলো যেন রহস্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
Yale-এর বর্ণনা অনুযায়ী, পাণ্ডুলিপিটিকে চিত্রের ভিত্তিতে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। কোথাও এমন সব উদ্ভিদের ছবি রয়েছে যেগুলো সহজে শনাক্ত করা যায় না। কোথাও astronomical ও astrological diagram, কোথাও গোসলরত মানুষের দৃশ্য, আবার কোথাও herbs ও roots-এর সঙ্গে pharmaceutical ধরনের illustration।
এর লেখক কে, সেটিও অজানা।
একসময় ধারণা করা হয়েছিল ইংরেজ দার্শনিক Roger Bacon হয়তো বইটি লিখেছিলেন। কিন্তু parchment-এর বৈজ্ঞানিক dating সেই ধারণার সঙ্গে মেলে না। ইতিহাসে নিশ্চিতভাবে বইটির অস্তিত্ব পাওয়া যায় ইউরোপের কয়েকজন সংগ্রাহকের কাছে। পরে ১৯১২ সালে rare-book dealer Wilfrid Voynich এটি কিনে নেন, আর তার নামেই বইটি পরিচিত হয়ে যায়। ১৯৬৯ সালে এটি Yale-এর Beinecke Library-তে আসে।
আজও নিয়মিত কেউ না কেউ দাবি করেন যে তিনি Voynich Manuscript-এর রহস্য সমাধান করেছেন। কিন্তু Yale-এর সাম্প্রতিক বিবরণেও এর script-কে এখনও undeciphered হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
হয়তো এটি কোনো হারিয়ে যাওয়া জ্ঞানভাণ্ডার। হয়তো সাংকেতিক ভাষায় লেখা চিকিৎসা বা প্রকৃতিবিষয়ক বই। আবার হয়তো এর ব্যাখ্যা আমাদের ধারণার চেয়েও সাধারণ।
কিন্তু প্রায় ছয় শতাব্দী পরও একটি প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর নেই:
এই বইয়ের পাতাগুলো আসলে কী বলছে?
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

সাইবেরিয়ার আকাশে কী বিস্ফোরিত হয়েছিল?
১৯০৮ সালের ৩০ জুন। রাশিয়ার সাইবেরিয়ার দুর্গম বনাঞ্চলে তখন সকাল। হঠাৎ আকাশে দেখা গেল এক উজ্জ্বল আগুনের গোলা। মুহূর্তের মধ্যে সেটি ভয়ংকর বিস্ফোরণে পরিণত হলো।
সম্পূর্ণ পড়ুন
মানুষগুলো কোথায় গেল? মেরি সেলেস্টের অমীমাংসিত রহস্য
১৮৭২ সালের ডিসেম্বর। আটলান্টিকের মাঝখানে একটি জাহাজকে অস্বাভাবিকভাবে ভেসে যেতে দেখে কাছাকাছি থাকা Dei Gratia নামের আরেকটি জাহাজ।
সম্পূর্ণ পড়ুন
১৯৫৯ সালের সেই রাতে ডায়াটলভ পাসে আসলে কী ঘটেছিল?
১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি। সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তর উরাল পর্বতমালায় কঠিন এক শীতকালীন অভিযানে বেরিয়েছিলেন অভিজ্ঞ তরুণ পর্বতারোহীদের একটি দল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইগর ডায়াটলভ। অভিযানটি আর শেষ হয়নি। দলের একজন
সম্পূর্ণ পড়ুন