১৯৫৯ সালের সেই রাতে ডায়াটলভ পাসে আসলে কী ঘটেছিল?
১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি। সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তর উরাল পর্বতমালায় কঠিন এক শীতকালীন অভিযানে বেরিয়েছিলেন অভিজ্ঞ তরুণ পর্বতারোহীদের একটি দল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইগর ডায়াটলভ। অভিযানটি আর শেষ হয়নি। দলের একজন
লেখক: পৃথিবীনামা

১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি। সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তর উরাল পর্বতমালায় কঠিন এক শীতকালীন অভিযানে বেরিয়েছিলেন অভিজ্ঞ তরুণ পর্বতারোহীদের একটি দল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইগর ডায়াটলভ। অভিযানটি আর শেষ হয়নি। দলের একজন অসুস্থ হয়ে আগেই ফিরে গিয়েছিলেন। বাকি নয়জনের সবাই মারা যান। উদ্ধারকারীরা যখন তাদের তাঁবু খুঁজে পান, সবচেয়ে অস্বাভাবিক বিষয়টি ছিল তাঁবুটি যেন ভেতর থেকে কেটে বের হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কয়েকজনকে পাওয়া যায় তাঁবু থেকে অনেক দূরে, তীব্র শীতের জন্য অপর্যাপ্ত পোশাক পরা অবস্থায়। কয়েকজনের শরীরে গুরুতর আঘাতও ছিল।
এই অস্বাভাবিক ঘটনাগুলো থেকেই জন্ম নেয় বিংশ শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত রহস্য, Dyatlov Pass Incident। পরবর্তী কয়েক দশকে ব্যাখ্যা হিসেবে সামনে এসেছে গোপন সামরিক পরীক্ষা, অদ্ভুত শব্দতরঙ্গ, প্রবল বাতাস, এমনকি ইয়েতি ও ভিনগ্রহীদের মতো ভিত্তিহীন তত্ত্বও। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনেক বেশি বাস্তব একটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে। একটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী slab avalanche। ২০২১ সালে Communications Earth & Environment জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় Johan Gaume ও Alexander Puzrin কম্পিউটার মডেল এবং তুষারের পদার্থবিদ্যা ব্যবহার করে দেখান, অভিযাত্রীরা তাঁবু স্থাপনের জন্য ঢালের তুষার কাটার পর ওপরের অংশে বাতাসের মাধ্যমে আরও তুষার জমতে পারে। কয়েক ঘণ্টা পরে দুর্বল স্তরের ওপর থাকা শক্ত তুষারের একটি slab ভেঙে নেমে তাঁবুতে আঘাত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া পদার্থবিদ্যার দিক থেকে সম্ভব।
কিন্তু একটি বড় প্রশ্ন ছিল, এলাকাটি কি সত্যিই avalanche হওয়ার মতো? পরবর্তী অভিযানগুলো সেই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দেয়। ২০২১ ও ২০২২ সালের অনুসন্ধানে গবেষকেরা নিশ্চিত করেন যে Dyatlov Pass-এর আশপাশের ঢালগুলো avalanche-prone। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কাছাকাছি এলাকায় দুটি নতুন slab avalanche-এর চিহ্নও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এতে একটি পুরোনো ধাঁধারও সম্ভাব্য উত্তর পাওয়া যায়। ১৯৫৯ সালে উদ্ধারকারী দল কয়েক সপ্তাহ পরে পৌঁছেছিল, অথচ ছোট slab avalanche-এর চিহ্ন প্রবল বাতাসে খুব দ্রুত নতুন তুষারের নিচে ঢাকা পড়ে যেতে পারে। ২০২২ সালের পর্যবেক্ষণে একটি avalanche-এর চিহ্ন এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রায় অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখা যায়।
তাহলে কি রহস্য পুরোপুরি সমাধান হয়ে গেছে? না। গবেষকেরা নিজেরাই সতর্ক করেছেন যে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিতভাবে পুনর্গঠন করার মতো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। তাদের গবেষণা দেখিয়েছে যে avalanche ব্যাখ্যাটি বৈজ্ঞানিকভাবে plausible, কিন্তু এটিকে শতভাগ প্রমাণিত চূড়ান্ত উত্তর বলা ঠিক হবে না।
হয়তো এ কারণেই Dyatlov Pass এত আকর্ষণীয়। ষাট বছরের বেশি সময় ধরে রহস্যে ঢাকা একটি ঘটনার অনেক অংশ বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে পারছে, কিন্তু সেই বরফঢাকা রাতে শেষ মুহূর্তগুলো ঠিক কীভাবে ঘটেছিল, তার পুরো গল্প আজও আমরা জানি না।
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

মানুষগুলো কোথায় গেল? মেরি সেলেস্টের অমীমাংসিত রহস্য
১৮৭২ সালের ডিসেম্বর। আটলান্টিকের মাঝখানে একটি জাহাজকে অস্বাভাবিকভাবে ভেসে যেতে দেখে কাছাকাছি থাকা Dei Gratia নামের আরেকটি জাহাজ।
সম্পূর্ণ পড়ুন
সাইবেরিয়ার আকাশে কী বিস্ফোরিত হয়েছিল?
১৯০৮ সালের ৩০ জুন। রাশিয়ার সাইবেরিয়ার দুর্গম বনাঞ্চলে তখন সকাল। হঠাৎ আকাশে দেখা গেল এক উজ্জ্বল আগুনের গোলা। মুহূর্তের মধ্যে সেটি ভয়ংকর বিস্ফোরণে পরিণত হলো।
সম্পূর্ণ পড়ুন
যে বইয়ের ভাষা আজও কেউ পড়তে পারেনি
একটি পুরোনো বই। পাতায় পাতায় অচেনা গাছপালা, নক্ষত্র ও রাশিচক্রের মতো চিত্র, রহস্যময় বৃত্তাকার নকশা, অদ্ভুত জলাধারে মানুষের ছবি। আর সবকিছুর পাশে লেখা এমন এক লিপি, যার অর্থ আজও নিশ্চিতভাবে কেউ উদ্ধার করত
সম্পূর্ণ পড়ুন