সোকোত্রা দ্বীপ: পৃথিবীতেই যেন অন্য এক জগত
ভাবুন এমন একটি দ্বীপের কথা, যেখানে ছাতার মতো অদ্ভুত গাছ, বিচ্ছিন্ন ভূদৃশ্য আর এমন সব উদ্ভিদ-প্রাণী আছে, যেগুলোর অনেকগুলো পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। ইয়েমেনের Socotra Archipelago ঠিক তেমনই এক বিস্ময়ক
লেখক: পৃথিবীনামা

ভাবুন এমন একটি দ্বীপের কথা, যেখানে ছাতার মতো অদ্ভুত গাছ, বিচ্ছিন্ন ভূদৃশ্য আর এমন সব উদ্ভিদ-প্রাণী আছে, যেগুলোর অনেকগুলো পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। ইয়েমেনের Socotra Archipelago ঠিক তেমনই এক বিস্ময়কর জায়গা। UNESCO World Heritage Centre-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি উত্তর-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে, Gulf of Aden-এর কাছে অবস্থিত এবং চারটি দ্বীপ ও দুটি পাথুরে ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
সোকোত্রাকে এত বিশেষ করে তুলেছে এর অসাধারণ biodiversity। UNESCO জানায়, এখানকার ৮২৫টি উদ্ভিদ প্রজাতির প্রায় ৩৭%, সরীসৃপের ৯০%, আর land snail-এর ৯৫% পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এই কারণেই Socotra Archipelago-কে বিশ্বের সবচেয়ে স্বতন্ত্র দ্বীপীয় জীববৈচিত্র্যের একটি বলে ধরা হয়।
এই দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক হলো Dragon’s Blood Tree ছাতার মতো চওড়া মাথাওয়ালা এক অদ্ভুত গাছ। UNESCO-র Man and the Biosphere Programme এটিকে Socotra-র spectacular endemic species-এর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই গাছের নাম এসেছে এর লাল রঙের resin বা রস থেকে, যা দেখতে অনেকটা রক্তের মতো।
Socotra শুধু প্রকৃতির জন্যই নয়, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও অনন্য। UNESCO-র তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপটির মানুষের নিজস্ব Soqotri ভাষা আছে, আর দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা এখানকার প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকে আলাদাভাবে গড়ে তুলেছে। সেই কারণেই সোকোত্রার দৃশ্য অনেকের কাছেই “পৃথিবীর বুকের ভিনগ্রহ” বলে মনে হয় যদিও এটি একেবারেই বাস্তব, এবং আমাদের এই পৃথিবীরই অংশ।
প্রকৃতি কখনও কখনও এমন সব জায়গা তৈরি করে, যা আমাদের পরিচিত পৃথিবীর ধারণাকেই বদলে দেয়। সোকোত্রা তেমনই এক জায়গা একই সঙ্গে রহস্যময়, সুন্দর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি কি আগে Socotra Archipelago-এর নাম শুনেছিলেন?
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

যে নদী সাগরে পৌঁছায় না, শুষ্ক মৌসুমে জাগিয়ে তোলে জলাভূমি!
কল্পনা করুন, চারদিকে শুষ্ক ভূমি। দীর্ঘদিন বৃষ্টি নেই। ঘাস শুকিয়ে যাচ্ছে, নদী-নালা থেকে পানি কমে আসছে।
সম্পূর্ণ পড়ুন
পৃথিবীর ভূত্বক যেখানে ধীরে ধীরে ছিঁড়ে যাচ্ছে
ইথিওপিয়ার Danakil Depression-এ ভূত্বকের তিনটি বড় অংশ দূরে সরে যাচ্ছে। রঙিন জলাধার ও আগ্নেয়গিরির আড়ালে চলছে পৃথিবীর ভূমি বদলে যাওয়ার প্রক্রিয়া।
সম্পূর্ণ পড়ুন
যে হ্রদ হঠাৎ প্রাণঘাতী গ্যাসের মেঘ ছেড়েছিল
১৯৮৬ সালের ২১ আগস্ট। ক্যামেরুনের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত শান্ত একটি আগ্নেয় হ্রদ, Lake Nyos। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে হ্রদটির গভীর পানিতে দীর্ঘদিন ধরে জমছিল বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড।
সম্পূর্ণ পড়ুন