পৃথিবীর ভূত্বক যেখানে ধীরে ধীরে ছিঁড়ে যাচ্ছে
ইথিওপিয়ার Danakil Depression-এ ভূত্বকের তিনটি বড় অংশ দূরে সরে যাচ্ছে। রঙিন জলাধার ও আগ্নেয়গিরির আড়ালে চলছে পৃথিবীর ভূমি বদলে যাওয়ার প্রক্রিয়া।
লেখক: পৃথিবীনামা

দূর থেকে দেখলে জায়গাটিকে অন্য কোনো গ্রহের পৃষ্ঠ বলে ভুল হতে পারে। বিস্তীর্ণ সাদা লবণের সমভূমি, হলুদ-কমলা খনিজের স্তর, সবুজাভ অম্লীয় জলাধার, উত্তপ্ত প্রস্রবণ আর সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এটি ইথিওপিয়ার Danakil Depression, বৃহত্তর Afar Depression-এর একটি অংশ। আর এর অদ্ভুত চেহারার পেছনে রয়েছে পৃথিবীর ভেতরের এক বিশাল ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। NASA Science এই অঞ্চলের কাছে পৃথিবীর ভূত্বকের তিনটি বড় অংশ, Nubian, Somali ও Arabian plate, পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ভূতত্ত্ববিদেরা এই মিলনস্থলকে বলেন Afar Triple Junction। প্লেটগুলো সরে যাওয়ায় ভূত্বক প্রসারিত ও পাতলা হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে অসংখ্য fault, fissure, volcano, fumarole এবং hot spring। NASA Science অর্থাৎ আমরা এখানে এমন একটি প্রক্রিয়া দেখছি, যা সাধারণত সমুদ্রের গভীরে নতুন oceanic crust তৈরির অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত। NASA-ও Danakil-কে tectonic rifting সরাসরি পর্যবেক্ষণের অসাধারণ স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছে। NASA Science এর সবচেয়ে অদ্ভুত অংশগুলোর একটি Dallol। এখানে ভূগর্ভের তাপ ও অগভীর magmatic activity-এর সঙ্গে বিশাল evaporite বা লবণের স্তরের মিথস্ক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে অত্যন্ত গরম, লবণাক্ত ও অম্লীয় hydrothermal system। কিছু উষ্ণ প্রস্রবণের pH প্রায় শূন্যের কাছাকাছি এবং তাপমাত্রা ১০০°C-এর কাছাকাছি বা তারও বেশি হতে পারে। লোহা ও অন্যান্য খনিজের রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকেই তৈরি হয় হলুদ, সবুজ, কমলা ও বাদামি রঙের বিচিত্র ভূদৃশ্য। Nature এই পরিবেশ এতটাই চরম যে এখানে জীবনের সীমা নিয়েও বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। ২০১৯ সালের একটি বিস্তৃত গবেষণায় দেখা যায়, আশপাশের কিছু কম চরম hypersaline পরিবেশে অণুজীব পাওয়া গেলেও Dallol-এর সবচেয়ে hyperacidic ও hypersaline কিছু জলাধারে জীবনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ তরল পানি থাকলেই সেখানে জীবন থাকতে হবে, এমন ধারণাও এখানে প্রশ্নের মুখে পড়ে। Nature Danakil Depression তাই শুধু অদ্ভুত রঙের মরুভূমি নয়। এটি এমন এক জায়গা, যেখানে আমাদের চোখের সামনেই tectonic plates দূরে সরে যাচ্ছে, ভূত্বক পাতলা হচ্ছে, magma ওপরে উঠছে এবং পৃথিবীর ভেতরের শক্তি প্রতিনিয়ত ভূমির চেহারা বদলে দিচ্ছে। আমরা যে পৃথিবীকে স্থির মনে করি, তার পৃষ্ঠ আসলে কখনোই পুরোপুরি স্থির নয়।
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

যে নদী সাগরে পৌঁছায় না, শুষ্ক মৌসুমে জাগিয়ে তোলে জলাভূমি!
কল্পনা করুন, চারদিকে শুষ্ক ভূমি। দীর্ঘদিন বৃষ্টি নেই। ঘাস শুকিয়ে যাচ্ছে, নদী-নালা থেকে পানি কমে আসছে।
সম্পূর্ণ পড়ুন
ডেথ ভ্যালির পাথরগুলো নিজেরাই চলত কীভাবে?
যুক্তরাষ্ট্রের Death Valley National Park-এর Racetrack Playa। বিশাল সমতল শুকনো হ্রদের বুকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য পাথর। কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার পাথরগুলো নয়, তাদের পেছনে মাটির ওপর তৈরি হওয়া লম্বা আঁকাবা
সম্পূর্ণ পড়ুন
যে হ্রদ হঠাৎ প্রাণঘাতী গ্যাসের মেঘ ছেড়েছিল
১৯৮৬ সালের ২১ আগস্ট। ক্যামেরুনের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত শান্ত একটি আগ্নেয় হ্রদ, Lake Nyos। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে হ্রদটির গভীর পানিতে দীর্ঘদিন ধরে জমছিল বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড।
সম্পূর্ণ পড়ুন