শনির মেরুতে বিশাল ষড়ভুজ কেন?
সৌরজগতের গ্রহগুলোর দিকে তাকালে আমরা সাধারণত গোলাকার ঝড়, ঘূর্ণি আর মেঘের বেল্ট দেখতে পাই। কিন্তু Saturn-এর উত্তর মেরুতে রয়েছে এমন এক বায়ুমণ্ডলীয় কাঠামো, যা প্রথম দেখায় প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হয়।
লেখক: পৃথিবীনামা

সৌরজগতের গ্রহগুলোর দিকে তাকালে আমরা সাধারণত গোলাকার ঝড়, ঘূর্ণি আর মেঘের বেল্ট দেখতে পাই। কিন্তু Saturn-এর উত্তর মেরুতে রয়েছে এমন এক বায়ুমণ্ডলীয় কাঠামো, যা প্রথম দেখায় প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হয়।
একটি বিশাল ষড়ভুজ।
এটি কোনো কঠিন কাঠামো নয়। NASA-র পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শনির উত্তর মেরুকে ঘিরে থাকা এটি একটি বিশাল ছয়-পাশের jet stream, যার প্রস্থ প্রায় ৩০,০০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ পৃথিবীর ব্যাসের দ্বিগুণেরও বেশি জায়গা জুড়ে এই কাঠামো বিস্তৃত। এর বাতাসের গতি প্রায় ৫০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, এটি ক্ষণস্থায়ী কোনো ঝড় নয়।
Voyager 1 ও Voyager 2 যখন ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালে শনির পাশ দিয়ে যায়, তখনই বিজ্ঞানীরা প্রথম এই অদ্ভুত ছয়-পাশের গঠনটি দেখতে পান। দুই দশকেরও বেশি সময় পরে Cassini মহাকাশযান শনিতে পৌঁছে আবার একই কাঠামো পর্যবেক্ষণ করে। অর্থাৎ এটি কয়েক দশক ধরে টিকে থাকা অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী একটি বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনা।
কিন্তু মেঘের প্রবাহ গোল না হয়ে ষড়ভুজ হলো কেন?
NASA-র Cassini পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা এটিকে একটি শক্তিশালী planetary wave বা স্থায়ী তরঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। দ্রুতগতির jet stream-এর ভেতরে তৈরি তরঙ্গ এমনভাবে স্থিতিশীল হতে পারে যে বায়ুর পথ ছয়টি প্রায় সোজা অংশে বাঁক নেয়। ফলে উপর থেকে পুরো প্রবাহটি একটি বিশাল ষড়ভুজের মতো দেখা যায়।
ষড়ভুজটির ঠিক মাঝখানেও রয়েছে আরেক বিস্ময়। শনির উত্তর মেরুতে একটি বিশাল hurricane-এর মতো ঘূর্ণিঝড় অবস্থান করছে। Cassini-র ছবিতে এর স্পষ্ট কেন্দ্র বা eye দেখা গেছে। কিন্তু এই কেন্দ্রীয় cyclone এবং তাকে ঘিরে থাকা ষড়ভুজ একই জিনিস নয়, তারা শনির মেরু অঞ্চলের দুটি সম্পর্কিত কিন্তু আলাদা বায়ুমণ্ডলীয় বৈশিষ্ট্য।
পৃথিবীতে বায়ুমণ্ডলের প্রবাহ প্রতিনিয়ত বদলায়। অথচ শত কোটি কিলোমিটার দূরের একটি গ্যাসীয় গ্রহে প্রকৃতি এমন একটি বিশাল জ্যামিতিক নকশা তৈরি করেছে, যা অন্তত কয়েক দশক ধরে পর্যবেক্ষকদের চোখে প্রায় একই রূপ ধরে রেখেছে।
শনির এই ষড়ভুজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির জটিল নিয়ম কখনও কখনও এমন আকৃতি তৈরি করতে পারে, যা দেখলে মনে হয় কেউ যেন নিখুঁত জ্যামিতি এঁকে দিয়েছে।
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

রাতের আকাশে রঙিন আলো নাচে কেন? অরোরার পেছনে আছে সূর্য
শীতের অন্ধকার রাতে মেরু অঞ্চলের আকাশে হঠাৎ দেখা যায় সবুজ আলোর বিশাল পর্দা। কখনও সেটি ঢেউয়ের মতো নড়ে, কখনও আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লাল, গোলাপি বা বেগুনি আভা।
সম্পূর্ণ পড়ুন
শুক্র গ্রহের এক দিন, পৃথিবীর এক বছরের চেয়েও দীর্ঘ!
পৃথিবীতে আমরা অভ্যস্ত একটি বছর মানেই অসংখ্য দিন। কিন্তু সৌরজগতের এমন একটি গ্রহ আছে যেখানে হিসাবটা উল্টো: শুক্র বা Venus নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে যে সময় নেয়, তার আগেই সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে ফেলে।
সম্পূর্ণ পড়ুন
মঙ্গলে এত বিশাল আগ্নেয়গিরি তৈরি হলো কীভাবে?
মঙ্গলে এমন একটি আগ্নেয়গিরি আছে, যার পাশে Everest-ও ছোট মনে হয়।
সম্পূর্ণ পড়ুন