মহাকাশ ও মহাবিশ্বপ্রায় ২ মিনিটের পাঠ

রাতের আকাশে রঙিন আলো নাচে কেন? অরোরার পেছনে আছে সূর্য

শীতের অন্ধকার রাতে মেরু অঞ্চলের আকাশে হঠাৎ দেখা যায় সবুজ আলোর বিশাল পর্দা। কখনও সেটি ঢেউয়ের মতো নড়ে, কখনও আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লাল, গোলাপি বা বেগুনি আভা।

লেখক: পৃথিবীনামা

অরোরা AuroraBorealis মহাকাশ সৌরজগৎ বিজ্ঞানaurora solar light show অরোরা AuroraBorealis মহাকাশ সৌরজগৎ বিজ্ঞান
রাতের আকাশে রঙিন আলো নাচে কেন? অরোরার পেছনে আছে সূর্য — নিবন্ধের চিত্র

শীতের অন্ধকার রাতে মেরু অঞ্চলের আকাশে হঠাৎ দেখা যায় সবুজ আলোর বিশাল পর্দা। কখনও সেটি ঢেউয়ের মতো নড়ে, কখনও আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লাল, গোলাপি বা বেগুনি আভা।

দেখে মনে হতে পারে পৃথিবীর আকাশেই কোনো রহস্যময় আলো তৈরি হচ্ছে।

কিন্তু এই গল্পের শুরু আসলে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরের সূর্যে।

সূর্য থেকে প্রতিনিয়ত মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ছে charged particles-এর প্রবাহ, যাকে আমরা solar wind বলি। এই কণাগুলো পৃথিবীর কাছে পৌঁছালে আমাদের গ্রহের magnetic field বা চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে interaction করে। সেই প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী কণাগুলো পৃথিবীর upper atmosphere-এর দিকে প্রবেশ করতে পারে, বিশেষ করে মেরু অঞ্চলের কাছে।

সেখানে শুরু হয় আসল আলোর খেলা।

Energetic particles যখন atmosphere-এর oxygen ও nitrogen-এর atom এবং molecule-এর সঙ্গে সংঘর্ষ করে, তখন সেগুলো অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ করে excited state-এ চলে যায়।

পরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সময় সেই অতিরিক্ত শক্তি আলো হিসেবে নির্গত হয়।

কোটি কোটি এমন interaction একসঙ্গে ঘটলেই রাতের আকাশে তৈরি হয় বিশাল আলোকিত curtain, arc আর ribbon-এর মতো দৃশ্য, যাকে আমরা বলি Aurora।

কিন্তু অরোরার এত রং আসে কোথা থেকে?

সবুজ অরোরা সবচেয়ে পরিচিত। NASA-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার উচ্চতায় excited oxygen থেকে সাধারণত এই সবুজ আলো তৈরি হয়।

আরও ওপরে, প্রায় ২০০ কিলোমিটার বা তার বেশি উচ্চতায় oxygen লাল আলো তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে nitrogen থেকে নীল ও গোলাপি আভা তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন রঙের আলো একসঙ্গে মিশে কখনও অরোরাকে বেগুনি, গোলাপি এমনকি প্রায় সাদাও দেখাতে পারে।

পৃথিবীর উত্তর মেরু অঞ্চলের অরোরাকে বলা হয় Aurora Borealis, যা Northern Lights নামেও পরিচিত। দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে একই ধরনের ঘটনাকে বলা হয় Aurora Australis বা Southern Lights।

আর সূর্যে শক্তিশালী activity হলে অরোরা আরও নাটকীয় হয়ে উঠতে পারে।

Coronal mass ejection-এর মতো solar eruption বিপুল পরিমাণ plasma মহাকাশে ছুড়ে দিতে পারে। সঠিক পরিস্থিতিতে সেই disturbance পৃথিবীর magnetosphere-এর সঙ্গে interaction করলে auroral activity আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় নিচু latitude থেকেও অরোরা দেখা যেতে পারে।

তাই অরোরা শুধু সুন্দর একটি প্রাকৃতিক আলোকসজ্জা নয়।

রাতের আকাশে তার প্রতিটি উজ্জ্বল পর্দা আসলে সূর্য, মহাকাশ, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র এবং আমাদের atmosphere-এর মধ্যে চলতে থাকা বিশাল এক interaction-এর দৃশ্যমান ফলাফল।

পৃথিবীর আকাশে আলো নাচে ঠিকই, কিন্তু সেই নাচের গল্প শুরু হয় সূর্য থেকে।

উৎস ও আরও পড়ুন

  1. https://science.nasa.gov/sun/auroras/
  2. https://www.nesdis.noaa.gov/news/auroras-natures-light-show-captured-low-earth-orbit
  3. https://swpc-drupal.woc.noaa.gov/content/aurora-tutorial
  4. https://spaceplace.nasa.gov/aurora/en/

গল্পটি শেয়ার করুন

এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

সব গল্প দেখুন
শনির মেরুতে বিশাল ষড়ভুজ কেন? — নিবন্ধের চিত্র
মহাকাশ ও মহাবিশ্ব১৮ সেপ, ২০২৬প্রায় ২ মিনিট

শনির মেরুতে বিশাল ষড়ভুজ কেন?

সৌরজগতের গ্রহগুলোর দিকে তাকালে আমরা সাধারণত গোলাকার ঝড়, ঘূর্ণি আর মেঘের বেল্ট দেখতে পাই। কিন্তু Saturn-এর উত্তর মেরুতে রয়েছে এমন এক বায়ুমণ্ডলীয় কাঠামো, যা প্রথম দেখায় প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হয়।

সম্পূর্ণ পড়ুন
শুক্র গ্রহের এক দিন, পৃথিবীর এক বছরের চেয়েও দীর্ঘ! — নিবন্ধের চিত্র
মহাকাশ ও মহাবিশ্ব৬ সেপ, ২০২৬প্রায় ২ মিনিট

শুক্র গ্রহের এক দিন, পৃথিবীর এক বছরের চেয়েও দীর্ঘ!

পৃথিবীতে আমরা অভ্যস্ত একটি বছর মানেই অসংখ্য দিন। কিন্তু সৌরজগতের এমন একটি গ্রহ আছে যেখানে হিসাবটা উল্টো: শুক্র বা Venus নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে যে সময় নেয়, তার আগেই সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে ফেলে।

সম্পূর্ণ পড়ুন