শুক্র গ্রহের এক দিন, পৃথিবীর এক বছরের চেয়েও দীর্ঘ!
পৃথিবীতে আমরা অভ্যস্ত একটি বছর মানেই অসংখ্য দিন। কিন্তু সৌরজগতের এমন একটি গ্রহ আছে যেখানে হিসাবটা উল্টো: শুক্র বা Venus নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে যে সময় নেয়, তার আগেই সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে ফেলে।
লেখক: পৃথিবীনামা

পৃথিবীতে আমরা অভ্যস্ত একটি বছর মানেই অসংখ্য দিন। কিন্তু সৌরজগতের এমন একটি গ্রহ আছে যেখানে হিসাবটা উল্টো: শুক্র বা Venus নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে যে সময় নেয়, তার আগেই সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে ফেলে।
NASA-এর তথ্য অনুযায়ী, Venus নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে প্রায় ২৪৩ পৃথিবী-দিন নেয়। অথচ সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে লাগে মাত্র ২২৫ পৃথিবী-দিন। অর্থাৎ rotation দিয়ে “দিন” হিসাব করলে শুক্রের একটি দিন তার একটি বছরের চেয়েও দীর্ঘ।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আছে। “এক দিন” দুইভাবে মাপা যায়। নিজের অক্ষে পূর্ণ rotation হলো sidereal day Venus-এর ক্ষেত্রে প্রায় ২৪৩ পৃথিবী-দিন। কিন্তু শুক্রের পৃষ্ঠে দাঁড়িয়ে এক সূর্যোদয় থেকে পরের সূর্যোদয় পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সময় লাগবে প্রায় ১১৭ পৃথিবী-দিন।
আরও অদ্ভুত হলো শুক্রের ঘূর্ণনের দিক।
পৃথিবীসহ অধিকাংশ গ্রহ যে দিকে ঘোরে, Venus ঘোরে তার বিপরীত দিকে যাকে বলা হয় retrograde rotation। ফলে শুক্রের পৃষ্ঠে মেঘের আড়াল ভেদ করে সূর্য দেখা সম্ভব হলে সেটিকে পশ্চিম দিকে উদিত এবং পূর্ব দিকে অস্ত যেতে দেখা যেত।
শুক্রকে প্রায়ই পৃথিবীর “সহোদর” গ্রহ বলা হয়, কারণ দুটি গ্রহের আকার কাছাকাছি। কিন্তু সময়ের হিসাব, ঘূর্ণনের দিক এবং ভয়াবহ পরিবেশ সব মিলিয়ে পাশের এই গ্রহটি পৃথিবী থেকে একেবারেই আলাদা এক জগত।
ভাবুন তো একটি গ্রহে জন্মদিন আসতে পারে একটি পূর্ণ rotation শেষ হওয়ার আগেই!
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

শনির মেরুতে বিশাল ষড়ভুজ কেন?
সৌরজগতের গ্রহগুলোর দিকে তাকালে আমরা সাধারণত গোলাকার ঝড়, ঘূর্ণি আর মেঘের বেল্ট দেখতে পাই। কিন্তু Saturn-এর উত্তর মেরুতে রয়েছে এমন এক বায়ুমণ্ডলীয় কাঠামো, যা প্রথম দেখায় প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হয়।
সম্পূর্ণ পড়ুন
চাঁদে মানুষের প্রথম পদচারণা: যে মুহূর্ত বদলে দিয়েছিল মহাকাশ ইতিহাস
১৯৬৯ সালের জুলাই। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৮৪,০০০ কিলোমিটার দূরে, মানুষের তৈরি একটি ছোট spacecraft চাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সম্পূর্ণ পড়ুন
মঙ্গলে এত বিশাল আগ্নেয়গিরি তৈরি হলো কীভাবে?
মঙ্গলে এমন একটি আগ্নেয়গিরি আছে, যার পাশে Everest-ও ছোট মনে হয়।
সম্পূর্ণ পড়ুন