মঙ্গলে এত বিশাল আগ্নেয়গিরি তৈরি হলো কীভাবে?
মঙ্গলে এমন একটি আগ্নেয়গিরি আছে, যার পাশে Everest-ও ছোট মনে হয়।
লেখক: পৃথিবীনামা

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত Mount Everest। কিন্তু মঙ্গলে এমন একটি আগ্নেয়গিরি আছে, যার পাশে Everest-ও ছোট মনে হয়।
এর নাম Olympus Mons।
এটি শুধু মঙ্গলের নয়, সৌরজগতের বৃহত্তম পরিচিত আগ্নেয়গিরি। ESA-এর পরিমাপ অনুযায়ী Olympus Mons আশপাশের সমভূমি থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উঁচু এবং এর ভিত্তি ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত। European Space Agency কিন্তু মঙ্গলের মতো পৃথিবীর চেয়ে ছোট একটি গ্রহে এত বিশাল আগ্নেয়গিরি তৈরি হলো কীভাবে? Olympus Mons একটি shield volcano। অর্থাৎ বিস্ফোরণে হঠাৎ খাড়া পাহাড় তৈরি হওয়ার বদলে তুলনামূলক তরল basaltic lava বারবার বেরিয়ে বিশাল এলাকার ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। অসংখ্য lava flow একটির ওপর আরেকটি জমতে জমতে তৈরি হয়েছে এর বিস্তৃত, ধীরে ঢালু শরীর।
তবে আসল রহস্যটি মঙ্গল আর পৃথিবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যে। পৃথিবীতে Hawaiian Islands-এর মতো জায়গায় ভূত্বকের tectonic plate একটি volcanic hotspot-এর ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে সরে যায়। ফলে একটি আগ্নেয়গিরি hotspot থেকে দূরে চলে গেলে অন্য জায়গায় নতুন আগ্নেয়গিরি তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলে পৃথিবীর মতো চলমান plate tectonics নেই।
তাই একটি volcanic source-এর ওপর একই অঞ্চল অত্যন্ত দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পেরেছে। নতুন নতুন lava flow একই জায়গায় জমে আগ্নেয়গিরিটিকে ক্রমাগত বড় করেছে। NASA এটিকে মঙ্গলের বিশাল volcano তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। NASA Science আরেকটি সুবিধা ছিল মঙ্গলের কম gravity। মঙ্গলের surface gravity পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। NASA-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই কম gravity-ও magma এবং volcanic structure-কে পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। Olympus Mons-এর চূড়াটিও সাধারণ পাহাড়ের চূড়ার মতো নয়।
সেখানে রয়েছে বিশাল complex caldera। USGS-এর বিস্তারিত geological mapping-এ ছয়টি overlapping collapse pit শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো মিলিয়ে প্রায় ৬৫ × ৮০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে। magma বেরিয়ে যাওয়ার পর নিচের magma chamber-এর অংশ খালি হলে ওপরের ভূমি ধসে এমন caldera তৈরি হতে পারে।
এর চারপাশের দৃশ্যও অস্বাভাবিক। Olympus Mons-এর প্রান্তে রয়েছে বিশাল scarp বা খাড়া cliff, যা কোনো কোনো জায়গায় কয়েক কিলোমিটার উঁচু। এর গঠন ও বিবর্তনের কিছু দিক নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।
Olympus Mons আমাদের একটি চমৎকার বিষয় মনে করিয়ে দেয়। একই ধরনের geological process ভিন্ন গ্রহে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার ভূদৃশ্য তৈরি করতে পারে। পৃথিবীতে যে প্রক্রিয়া একটি দ্বীপমালা তৈরি করে, মঙ্গলের পরিবেশে সেই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী volcanism গড়ে তুলতে পারে সৌরজগতের সবচেয়ে বিশাল আগ্নেয়গিরি।
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

রাতের আকাশে রঙিন আলো নাচে কেন? অরোরার পেছনে আছে সূর্য
শীতের অন্ধকার রাতে মেরু অঞ্চলের আকাশে হঠাৎ দেখা যায় সবুজ আলোর বিশাল পর্দা। কখনও সেটি ঢেউয়ের মতো নড়ে, কখনও আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লাল, গোলাপি বা বেগুনি আভা।
সম্পূর্ণ পড়ুন
শনির মেরুতে বিশাল ষড়ভুজ কেন?
সৌরজগতের গ্রহগুলোর দিকে তাকালে আমরা সাধারণত গোলাকার ঝড়, ঘূর্ণি আর মেঘের বেল্ট দেখতে পাই। কিন্তু Saturn-এর উত্তর মেরুতে রয়েছে এমন এক বায়ুমণ্ডলীয় কাঠামো, যা প্রথম দেখায় প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হয়।
সম্পূর্ণ পড়ুন
শুক্র গ্রহের এক দিন, পৃথিবীর এক বছরের চেয়েও দীর্ঘ!
পৃথিবীতে আমরা অভ্যস্ত একটি বছর মানেই অসংখ্য দিন। কিন্তু সৌরজগতের এমন একটি গ্রহ আছে যেখানে হিসাবটা উল্টো: শুক্র বা Venus নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে যে সময় নেয়, তার আগেই সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে ফেলে।
সম্পূর্ণ পড়ুন