গুহার ভেতর ১১ মিটার লম্বা স্ফটিক!
কল্পনা করুন, মাটির প্রায় ৩০০ মিটার নিচে এমন একটি গুহা, যেখানে চারদিকে ছড়িয়ে আছে বিশাল বিশাল স্বচ্ছ স্ফটিক। কোনোটি মাটি থেকে উঠে গেছে অনেক ওপরে, আবার কোনোটি দেয়াল ভেদ করে আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত।
লেখক: পৃথিবীনামা

কল্পনা করুন, মাটির প্রায় ৩০০ মিটার নিচে এমন একটি গুহা, যেখানে চারদিকে ছড়িয়ে আছে বিশাল বিশাল স্বচ্ছ স্ফটিক। কোনোটি মাটি থেকে উঠে গেছে অনেক ওপরে, আবার কোনোটি দেয়াল ভেদ করে আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত।
কিছু স্ফটিক এতটাই বড় যে একজন মানুষ তার পাশে দাঁড়ালে নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হবে! এটি কোনো কল্পবিজ্ঞানের দৃশ্য নয়।
এমন একটি গুহা সত্যিই রয়েছে মেক্সিকোতে! এর নাম Cave of Crystals, স্থানীয়ভাবে পরিচিত Cueva de los Cristales নামে। মেক্সিকোর Chihuahua রাজ্যের Naica খনির গভীরে অবস্থিত এই অসাধারণ গুহাটি ২০০০ সালে আবিষ্কৃত হয়।
গুহাটিতে পাওয়া কিছু স্ফটিক প্রায় ১১ মিটার লম্বা এবং ১ মিটার পুরু। এগুলো পৃথিবীতে আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক gypsum crystal-এর অন্যতম। Nature
কিন্তু এত বিশাল স্ফটিক তৈরি হলো কীভাবে?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে ভূগর্ভস্থ গরম পানি এবং অত্যন্ত ধীর একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায়। গুহাটির স্ফটিকগুলো মূলত Selenite, যা Gypsum খনিজের একটি স্বচ্ছ স্ফটিকাকার রূপ। একসময় গুহাটি খনিজসমৃদ্ধ গরম পানিতে পূর্ণ ছিল। সেই পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় ছিল ক্যালসিয়াম ও সালফেট।
ভূগর্ভস্থ তাপমাত্রা অত্যন্ত ধীরে পরিবর্তিত হওয়ার ফলে Anhydrite নামের একটি খনিজ দ্রবীভূত হয়ে Gypsum স্ফটিক তৈরির উপাদান সরবরাহ করেছিল। বিশেষ বিষয় হলো, পানিতে নতুন স্ফটিক তৈরি হওয়ার প্রবণতা ছিল খুব কম। ফলে অসংখ্য ছোট স্ফটিক তৈরি না হয়ে অল্প কয়েকটি স্ফটিক দীর্ঘ সময় ধরে বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।
আর সেই বৃদ্ধির গতি ছিল অবিশ্বাস্য রকম ধীর!
২০১১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রায় ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় স্ফটিক বৃদ্ধির গতি পরিমাপ করেন। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, অনুরূপ পরিস্থিতিতে মাত্র এক মিটার পুরু একটি স্ফটিক তৈরি হতে প্রায় ১০ লাখ বছর লাগতে পারে!
তবে সব স্ফটিকের বয়স ১০ লাখ বছর, এমন নয়। স্ফটিকগুলো ভিন্ন সময়ে গঠন শুরু করেছে এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে বৃদ্ধির গতিও বদলেছে। PubMed Central (PMC) কিন্তু গুহাটির আরেকটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিবেশ।
গুহার তাপমাত্রা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি এবং বাতাসের আর্দ্রতা প্রায় শতভাগ।
এত গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বিশেষ সুরক্ষা ছাড়া দীর্ঘ সময় অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। Nature আসলে গুহাটি আবিষ্কারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল খনির কাজের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি পাম্প করে সরিয়ে দেওয়ার ফলে।
পানি সরে যাওয়ায় গবেষকেরা সেই বিশাল স্ফটিকগুলো দেখতে এবং পরীক্ষা করতে পেরেছিলেন। তবে এই আবিষ্কার একটি নতুন সমস্যাও তৈরি করে। হাজার হাজার বছর ধরে পানির নিচে থাকা স্ফটিকগুলো বাতাসের সংস্পর্শে এসে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে সেগুলো সংরক্ষণ করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রকৃতি এখানে এমন কিছু তৈরি করেছে যা দেখতে অনেকটা মানুষের বানানো বিশাল কাচের স্তম্ভের মতো। অথচ এর পেছনে কোনো কারিগর নেই।
আছে শুধু খনিজসমৃদ্ধ পানি, উপযুক্ত তাপমাত্রা এবং অবিশ্বাস্য দীর্ঘ সময়। মানুষ যেখানে কয়েক বছরে বিশাল স্থাপনা তৈরি করে, সেখানে প্রকৃতি কখনো কখনো একটি স্ফটিক তৈরি করতেই লক্ষ লক্ষ বছর সময় নেয়।
পৃথিবীর গভীরে এমন কত বিস্ময় যে এখনো আমাদের অজানা, কে জানে!
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

যে গাছের রস রক্তের মতো লাল!
কল্পনা করুন, আপনি এমন একটি দ্বীপে পৌঁছেছেন, যেখানে পাহাড়ের ঢালে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য অদ্ভুত আকৃতির গাছ।
সম্পূর্ণ পড়ুন
সূর্যের আলো ছাড়াই টিকে থাকা এক গোপন জগৎ
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি পরিচিত খাদ্যজালের শুরুতে কোনো না কোনোভাবে সূর্যের ভূমিকা থাকে। গাছ বা শৈবাল সূর্যের আলো ব্যবহার করে photosynthesis করে, তারপর সেই শক্তিই ছড়িয়ে পড়ে অন্য প্রাণীদের মধ্যে। কিন্তু রো
সম্পূর্ণ পড়ুন
শীতে জমে গিয়েও বেঁচে থাকে যে ব্যাঙ!
কল্পনা করুন, প্রচণ্ড শীতের মধ্যে একটি ছোট ব্যাঙ পড়ে আছে বরফে ঢাকা বনের মাটিতে।
সম্পূর্ণ পড়ুন