হিমালয়: যে পর্বতমালার জন্ম হয়েছিল দুই মহাদেশের সংঘর্ষে!
পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়কে আমরা আজ স্থির ও অটল মনে করি। কিন্তু এর জন্মের গল্পটা আসলে কোটি কোটি বছর ধরে চলা পৃথিবীর এক বিশাল ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের গল্প।
লেখক: পৃথিবীনামা

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়কে আমরা আজ স্থির ও অটল মনে করি। কিন্তু এর জন্মের গল্পটা আসলে কোটি কোটি বছর ধরে চলা পৃথিবীর এক বিশাল ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের গল্প।
🌏 যখন ভারত এশিয়ার অংশ ছিল না
কয়েক কোটি বছর আগে বর্তমান ভারতীয় উপমহাদেশের ভূখণ্ড ছিল এশিয়া থেকে অনেক দক্ষিণে। ভারত ও এশিয়ার মাঝখানে ছিল একটি প্রাচীন সমুদ্র — টেথিস সাগর (Tethys Sea)।
Indian Plate বা ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট ধীরে ধীরে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ কোটি বছর আগে ভারত এশিয়ার প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল।
💥 তারপর শুরু হলো মহাদেশের সঙ্গে মহাদেশের সংঘর্ষ
প্রায় ৪–৫ কোটি বছর আগে Indian Plate এসে Eurasian Plate-এর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু করে।
দুটি মহাদেশীয় ভূত্বক মুখোমুখি চাপ দিতে থাকায় মাঝখানের শিলাস্তর সংকুচিত, ভাঁজ ও পুরু হতে থাকে এবং বিভিন্ন অংশ উপরের দিকে উঠে আসে।
সহজ একটা উদাহরণ চিন্তা করুন — টেবিলের ওপর একটি কাপড় রেখে দুই পাশ থেকে ঠেলে দিলে কাপড়ের মাঝখানটা যেমন কুঁচকে উঁচু হয়ে যায়, অনেকটা তেমনই।
এই বিশাল tectonic process-এর ফলেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে হিমালয় পর্বতমালা এবং এর উত্তরের তিব্বতি মালভূমি (Tibetan Plateau)।
🌊 কিন্তু পাহাড়ে সমুদ্রের চিহ্ন এলো কীভাবে?
এখানেই গল্পটি আরও চমৎকার।
Indian Plate ও Eurasian Plate-এর মাঝখানের Tethys Sea-এর তলদেশে কোটি কোটি বছর ধরে পলি ও সামুদ্রিক sediment জমেছিল। দুই প্লেটের সংঘর্ষের সময় সেই sedimentary rock-এর অংশও ভাঁজ হয়ে অনেক ওপরে উঠে আসে।
অর্থাৎ আজ হিমালয়ের যে শিলা আমরা আকাশের দিকে উঠে থাকতে দেখি, তার কিছু অংশের ইতিহাস শুরু হয়েছিল প্রাচীন সমুদ্রের পরিবেশে!
🏔️ এভারেস্টও এই বিশাল প্রক্রিয়ার ফল
Mount Everest আলাদা কোনো পর্বতমালা নয়। এটি হিমালয়েরই একটি শৃঙ্গ এবং বর্তমান হিসাবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
আর হিমালয় কোনো একটি পাহাড় নয়; এটি প্রায় ২,৯০০ কিলোমিটার বিস্তৃত বিশাল একটি mountain system।
🌍 সবচেয়ে অবাক করা বিষয়—এই গল্প এখনো শেষ হয়নি
Indian Plate এখনো Eurasia-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বৃহত্তর India–Eurasia convergence-এর হার অঞ্চলভেদে বছরে কয়েক সেন্টিমিটারের মাত্রায়।
এর ফলে হিমালয় অঞ্চল এখনো tectonically active। ভূত্বকের বিভিন্ন fault-এ দীর্ঘ সময় ধরে চাপ জমে হঠাৎ মুক্ত হলে শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটতে পারে।
তাই হিমালয় শুধু কোটি কোটি বছর আগের কোনো ভূতাত্ত্বিক ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন নয়।
এটি পৃথিবীর এমন একটি জায়গা, যেখানে আজও আমাদের চোখের সামনেই অত্যন্ত ধীর গতিতে পর্বত গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। 🌏🏔️
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

যে হ্রদ হঠাৎ প্রাণঘাতী গ্যাসের মেঘ ছেড়েছিল
১৯৮৬ সালের ২১ আগস্ট। ক্যামেরুনের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত শান্ত একটি আগ্নেয় হ্রদ, Lake Nyos। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে হ্রদটির গভীর পানিতে দীর্ঘদিন ধরে জমছিল বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড।
সম্পূর্ণ পড়ুন
সাহারার চোখ: মহাকাশ থেকে দেখা এই বিশাল বৃত্ত আসলে কী?
সাহারা মরুভূমির মাঝখানে এমন একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামো রয়েছে, যা মহাকাশ থেকে দেখলে মনে হয় পৃথিবীর বুকের ওপর আঁকা বিশাল এক চোখ।
সম্পূর্ণ পড়ুন
ডেথ ভ্যালির পাথরগুলো নিজেরাই চলত কীভাবে?
যুক্তরাষ্ট্রের Death Valley National Park-এর Racetrack Playa। বিশাল সমতল শুকনো হ্রদের বুকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য পাথর। কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার পাথরগুলো নয়, তাদের পেছনে মাটির ওপর তৈরি হওয়া লম্বা আঁকাবা
সম্পূর্ণ পড়ুন