ডেথ ভ্যালির পাথরগুলো নিজেরাই চলত কীভাবে?
যুক্তরাষ্ট্রের Death Valley National Park-এর Racetrack Playa। বিশাল সমতল শুকনো হ্রদের বুকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য পাথর। কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার পাথরগুলো নয়, তাদের পেছনে মাটির ওপর তৈরি হওয়া লম্বা আঁকাবা
লেখক: পৃথিবীনামা

যুক্তরাষ্ট্রের Death Valley National Park-এর Racetrack Playa। বিশাল সমতল শুকনো হ্রদের বুকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য পাথর। কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার পাথরগুলো নয়, তাদের পেছনে মাটির ওপর তৈরি হওয়া লম্বা আঁকাবাঁকা দাগ।
দেখলে মনে হয়, কেউ যেন পাথরগুলোকে মাটির ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে গেছে।
কিছু পাথরের ওজন প্রায় ৩২০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত। তাদের কোনোটি আবার বছরের পর বছর একই জায়গায় পড়ে থাকে। অথচ কখনো কখনো অবস্থান বদলে পেছনে রেখে যায় কয়েকশ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ চিহ্ন।
দীর্ঘদিন ধরে এর কারণ নিয়ে নানা ধারণা ছিল। প্রবল বাতাস, পিচ্ছিল কাদা, বরফ, এমনকি dust devil-কেও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ভাবা হয়েছিল।
তারপর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বিজ্ঞানীরা ঘটনাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হন। GPS-যুক্ত পাথর, weather station এবং time-lapse photography ব্যবহার করে দেখা যায়, রহস্যটির পেছনে রয়েছে পানি, পাতলা বরফ এবং হালকা বাতাসের এক বিরল সমন্বয়।
শীতকালে কখনো পর্যাপ্ত বৃষ্টি বা তুষারের পানি জমে Racetrack Playa-তে অগভীর জলাধার তৈরি হয়। রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে পানির ওপর মাত্র কয়েক মিলিমিটার পুরু পাতলা বরফের স্তর তৈরি হতে পারে।
পরদিন সূর্যের তাপে বরফ গলতে শুরু করলে সেটি বড় বড় ভাসমান পাতলা খণ্ডে ভেঙে যায়। তখন হালকা বাতাস সেই বরফের খণ্ডগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যায়। বরফ পাথরের গায়ে চাপ দিলে ভেজা ও নরম কাদার ওপর পাথরগুলো খুব ধীরে সরে যেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই চলাচলের জন্য ঝড়ের মতো বাতাসও প্রয়োজন হয় না। পর্যবেক্ষিত ঘটনায় প্রায় ৩ থেকে ৫ মিটার প্রতি সেকেন্ড গতির বাতাসই যথেষ্ট ছিল। পাথরগুলোও ছুটে যায় না, এগুলো সাধারণত মিনিটে মাত্র কয়েক মিটার গতিতে সরে।
২০১৩ সালের একটি ঘটনায় গবেষকেরা ৬০টিরও বেশি পাথরকে একই সময়ে নড়তে দেখেছিলেন। কিছু GPS-যুক্ত পাথর কয়েকটি ঘটনায় মিলিয়ে ২২৪ মিটার পর্যন্ত স্থান পরিবর্তন করেছিল।
অর্থাৎ পাথরগুলো নিজের শক্তিতে হাঁটে না।
তবু প্রকৃতির এমন একটি বিরল পরিস্থিতি তাদের এমনভাবে সরিয়ে দেয় যে শুকিয়ে যাওয়া মাটিতে থেকে যায় রহস্যময় দীর্ঘ পথের চিহ্ন।
কয়েক দশক ধরে যে দৃশ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল, শেষ পর্যন্ত তার উত্তর পাওয়া গেল কয়েক মিলিমিটার পাতলা বরফ, সামান্য পানি আর হালকা বাতাসের মধ্যে।
প্রকৃতির এমন আর কোন রহস্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানতে চান?
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

যে নদী সাগরে পৌঁছায় না, শুষ্ক মৌসুমে জাগিয়ে তোলে জলাভূমি!
কল্পনা করুন, চারদিকে শুষ্ক ভূমি। দীর্ঘদিন বৃষ্টি নেই। ঘাস শুকিয়ে যাচ্ছে, নদী-নালা থেকে পানি কমে আসছে।
সম্পূর্ণ পড়ুন
পৃথিবীর ভূত্বক যেখানে ধীরে ধীরে ছিঁড়ে যাচ্ছে
ইথিওপিয়ার Danakil Depression-এ ভূত্বকের তিনটি বড় অংশ দূরে সরে যাচ্ছে। রঙিন জলাধার ও আগ্নেয়গিরির আড়ালে চলছে পৃথিবীর ভূমি বদলে যাওয়ার প্রক্রিয়া।
সম্পূর্ণ পড়ুন
যে হ্রদ হঠাৎ প্রাণঘাতী গ্যাসের মেঘ ছেড়েছিল
১৯৮৬ সালের ২১ আগস্ট। ক্যামেরুনের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত শান্ত একটি আগ্নেয় হ্রদ, Lake Nyos। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে হ্রদটির গভীর পানিতে দীর্ঘদিন ধরে জমছিল বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড।
সম্পূর্ণ পড়ুন