সমুদ্রের তলায় আবার লেক? এই অদ্ভুত জলাশয় তৈরি হয় কীভাবে?
একটি লেকের তলায় আরেকটি লেক। কথাটা অসম্ভব মনে হলেও গভীর সমুদ্রের কিছু জায়গায় সত্যিই এমন দৃশ্য দেখা যায়। চারদিকে স্বাভাবিক সমুদ্রের পানি, অথচ সমুদ্রতলের একটি নিচু জায়গায় আলাদা পৃষ্ঠ ও তীররেখার মতো সীমান
লেখক: পৃথিবীনামা

একটি লেকের তলায় আরেকটি লেক। কথাটা অসম্ভব মনে হলেও গভীর সমুদ্রের কিছু জায়গায় সত্যিই এমন দৃশ্য দেখা যায়। চারদিকে স্বাভাবিক সমুদ্রের পানি, অথচ সমুদ্রতলের একটি নিচু জায়গায় আলাদা পৃষ্ঠ ও তীররেখার মতো সীমানা নিয়ে জমে আছে আরেকটি জলাশয়।
এগুলোকে বলা হয় brine pool।
রহস্যের মূল কারণ হলো লবণ। Brine pool-এর পানি আশপাশের সমুদ্রের পানির তুলনায় অনেক বেশি লবণাক্ত। ফলে এর ঘনত্বও বেশি। ভারী এই পানি সাধারণ সমুদ্রজলের সঙ্গে দ্রুত মিশে না গিয়ে সমুদ্রতলের দিকে নেমে যায় এবং গর্ত বা অববাহিকায় জমা হয়। তাই বাইরে থেকে সেটিকে পানির নিচে আরেকটি লেকের মতো দেখায়।
উদাহরণ হিসেবে Gulf of Mexico-র কিছু অঞ্চলে সমুদ্রতলের নিচে পুরু লবণের স্তর রয়েছে। সমুদ্রের পানি সেই লবণস্তরের সংস্পর্শে এসে প্রচুর লবণ দ্রবীভূত করলে অত্যন্ত ঘন brine তৈরি হয়। এই পানি নিচু স্থানে জমে কখনও লেক, কখনও আবার প্রবাহিত নদী বা জলপ্রপাতের মতো দৃশ্যও তৈরি করতে পারে। NOAA অভিযানে এমন brine waterfall-ও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
কিছু গভীর brine basin আরও চরম। Woods Hole Oceanographic Institution-এর তথ্য অনুযায়ী, Deep Hypersaline Anoxic Basin বা DHAB-এর পানি স্বাভাবিক সমুদ্রজলের তুলনায় ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি লবণাক্ত হতে পারে। অতিরিক্ত ঘনত্বের কারণে ওপরের পানির সঙ্গে মিশ্রণ এত কম হয় যে গভীর অংশে অক্সিজেন পুনরায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে সেখানে প্রায় সম্পূর্ণ অক্সিজেনশূন্য পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
এমন পরিবেশ অধিকাংশ পরিচিত প্রাণীর জন্য প্রতিকূল হলেও জীবন পুরোপুরি অনুপস্থিত নয়। কিছু brine basin-এ বিশেষ ধরনের অণুজীব অক্সিজেন ছাড়াই টিকে থাকে এবং methane, sulfide ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থকে ঘিরে গড়ে ওঠে অস্বাভাবিক ecosystem। কিছু brine pool-এর কিনারায় mussel ও অন্যান্য প্রাণীর ঘন সমাবেশও দেখা যায়।
অর্থাৎ সমুদ্রের তলার এই “লেক” আসলে আলাদা কোনো সাধারণ মিঠাপানির জলাশয় নয়। এটি একই সমুদ্রের মধ্যেই তৈরি হওয়া অত্যন্ত লবণাক্ত ও ঘন পানির একটি পৃথক স্তর।
একই পদার্থ, পানি। শুধু লবণের পরিমাণ বদলে গেলেই প্রকৃতি তার ভেতরে আরেকটি সম্পূর্ণ আলাদা জলজ জগতের সীমানা তৈরি করতে পারে।
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

ম্যান্টিস শ্রিম্প: যার চোখ আমাদের অদৃশ্য আলোও দেখতে পারে
সমুদ্রের অগভীর উষ্ণ পানিতে বাস করে ছোট্ট এক crustacean ম্যান্টিস শ্রিম্প। নামের মধ্যে “shrimp” থাকলেও এটি সাধারণ চিংড়ি নয়। কিন্তু এর সবচেয়ে বিস্ময়কর অস্ত্রটি তার শক্তিশালী সামনের পা নয় বরং চোখ।
সম্পূর্ণ পড়ুন
মৃত তিমি থেকে জন্ম নেয় নতুন জীবন!
কল্পনা করুন, সমুদ্রের কয়েক হাজার মিটার নিচে এক বিশাল তিমির মৃতদেহ পড়ে আছে।
সম্পূর্ণ পড়ুন
পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাণীটি ডাইনোসর নয়, আজও সে বেঁচে আছে!
একটি পূর্ণবয়স্ক নীল তিমি প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন ১৫০ টনেরও বেশি হতে পারে। NOAA এটিকে পৃথিবীতে বসবাস করা সবচেয়ে বড় প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করে।
সম্পূর্ণ পড়ুন