সমুদ্র ও মহাসাগরপ্রায় ২ মিনিটের পাঠ

ম্যান্টিস শ্রিম্প: যার চোখ আমাদের অদৃশ্য আলোও দেখতে পারে

সমুদ্রের অগভীর উষ্ণ পানিতে বাস করে ছোট্ট এক crustacean ম্যান্টিস শ্রিম্প। নামের মধ্যে “shrimp” থাকলেও এটি সাধারণ চিংড়ি নয়। কিন্তু এর সবচেয়ে বিস্ময়কর অস্ত্রটি তার শক্তিশালী সামনের পা নয় বরং চোখ।

লেখক: পৃথিবীনামা

ম্যান্টিসশ্রিম্প সমুদ্রেররহস্য সামুদ্রিকজগৎ প্রাণীজগতেরবিস্ময় আপনিজানেনকিmantis shrimp vision ম্যান্টিসশ্রিম্প সমুদ্রেররহস্য সামুদ্রিকজগৎ প্রাণীজগতেরবিস্ময় আপনিজানেনকি
ম্যান্টিস শ্রিম্প: যার চোখ আমাদের অদৃশ্য আলোও দেখতে পারে — নিবন্ধের চিত্র

সমুদ্রের অগভীর উষ্ণ পানিতে বাস করে ছোট্ট এক crustacean ম্যান্টিস শ্রিম্প। নামের মধ্যে “shrimp” থাকলেও এটি সাধারণ চিংড়ি নয়। কিন্তু এর সবচেয়ে বিস্ময়কর অস্ত্রটি তার শক্তিশালী সামনের পা নয় বরং চোখ।

মানুষের চোখে রঙ শনাক্ত করার জন্য তিন ধরনের cone receptor থাকে। ম্যান্টিস শ্রিম্পের কিছু প্রজাতির visual system-এ রয়েছে ১২টি colour channel। তারা ultraviolet আলোও শনাক্ত করতে পারে যে অংশটি মানুষের চোখে সম্পূর্ণ অদৃশ্য।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়।

ম্যান্টিস শ্রিম্প polarized light-ও দেখতে পারে। এমনকি কিছু প্রজাতি circular polarization শনাক্ত করতে সক্ষম—আলোর এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা আমরা খালি চোখে দেখতে পারি না। গবেষণায় দেখা গেছে, তারা এই বিশেষ দৃষ্টিশক্তি পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং নিজেদের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানের কাজেও ব্যবহার করতে পারে।

তবে একটি মজার twist আছে: ১২টি colour receptor থাকলেই যে তারা মানুষের চেয়ে সূক্ষ্মভাবে রঙের পার্থক্য করতে পারে, তা নয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে কাছাকাছি দুটি রঙ আলাদা করার ক্ষেত্রে মানুষের তুলনায় তাদের performance খারাপ হতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, তাদের মস্তিষ্ক রঙ বিশ্লেষণ করে আমাদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সম্ভবত দ্রুততর উপায়ে।

আর যদি চোখ যথেষ্ট বিস্ময়কর মনে না হয় কিছু mantis shrimp-এর সামনের club এত দ্রুত আঘাত করে যে পানিতে cavitation bubble তৈরি হতে পারে। সেই bubble ভেঙে পড়ার সময়ও shock wave সৃষ্টি হয়, যা শক্ত খোলসের শিকার ভাঙতে সাহায্য করে।

এই প্রাণীর চোখের গঠন এখন শুধু marine biology-র কৌতূহল নয়। ম্যান্টিস শ্রিম্পের polarization vision থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গবেষকেরা নতুন ধরনের imaging ও sensor technology নিয়েও কাজ করছেন।

মাত্র কয়েক ইঞ্চির একটি সামুদ্রিক প্রাণী কিন্তু তার কাছে পৃথিবীর আলো এমন কিছু তথ্য বহন করে, যা আমাদের চোখের সামনে থেকেও আমরা কখনো দেখতে পাই না।

ভাবুন তো আমাদের চোখেও যদি polarized ও ultraviolet আলো দেখা যেত, পরিচিত পৃথিবীটা দেখতে কতটা আলাদা হতো?

উৎস ও আরও পড়ুন

  1. https://news.uq.edu.au/2014-01-24-shrimp-gives-insight-colour-vision
  2. https://www.uq.edu.au/news/article/2019/11/mantis-shrimp-make-sense-of-staggering-amount-of-visual-information
  3. https://www.bristol.ac.uk/news/2009/6591.html
  4. https://www.si.edu/collections/snapshot/behold-mantis-shrimp

গল্পটি শেয়ার করুন

এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

সব গল্প দেখুন
সমুদ্রের তলায় আবার লেক? এই অদ্ভুত জলাশয় তৈরি হয় কীভাবে? — নিবন্ধের চিত্র
সমুদ্র ও মহাসাগর২২ সেপ, ২০২৬প্রায় ২ মিনিট

সমুদ্রের তলায় আবার লেক? এই অদ্ভুত জলাশয় তৈরি হয় কীভাবে?

একটি লেকের তলায় আরেকটি লেক। কথাটা অসম্ভব মনে হলেও গভীর সমুদ্রের কিছু জায়গায় সত্যিই এমন দৃশ্য দেখা যায়। চারদিকে স্বাভাবিক সমুদ্রের পানি, অথচ সমুদ্রতলের একটি নিচু জায়গায় আলাদা পৃষ্ঠ ও তীররেখার মতো সীমান

সম্পূর্ণ পড়ুন
পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাণীটি ডাইনোসর নয়, আজও সে বেঁচে আছে! — নিবন্ধের চিত্র
সমুদ্র ও মহাসাগর৯ সেপ, ২০২৬প্রায় ২ মিনিট

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাণীটি ডাইনোসর নয়, আজও সে বেঁচে আছে!

একটি পূর্ণবয়স্ক নীল তিমি প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন ১৫০ টনেরও বেশি হতে পারে। NOAA এটিকে পৃথিবীতে বসবাস করা সবচেয়ে বড় প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করে।

সম্পূর্ণ পড়ুন
স্পার্ম হোয়েল: অন্ধকার সমুদ্রে শব্দ দিয়ে শিকার খোঁজা এক বিস্ময়কর ডুবুরি — নিবন্ধের চিত্র
সমুদ্র ও মহাসাগর১ সেপ, ২০২৬প্রায় ২ মিনিট

স্পার্ম হোয়েল: অন্ধকার সমুদ্রে শব্দ দিয়ে শিকার খোঁজা এক বিস্ময়কর ডুবুরি

সমুদ্রের যত গভীরে নামা যায়, আলো তত দ্রুত হারিয়ে যেতে থাকে। প্রায় ২০০ মিটার গভীরতার পর মানুষের চোখের জন্য সূর্যের আলো কার্যত অদৃশ্য হয়ে যায়। অথচ সেই অন্ধকার জগতেই নিয়মিত খাবারের সন্ধানে নামে বিশাল স্পা

সম্পূর্ণ পড়ুন