বজ্রপাতের অনেক ওপরে এই লাল আলো কী?
রাতে দূরে কোনো বজ্রঝড় দেখছেন। মেঘের ভেতর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। হঠাৎ সেই মেঘের বহু ওপরে আকাশে কয়েক মুহূর্তের জন্য জ্বলে উঠল বিশাল লালচে আলোর শাখা, অনেকটা জেলিফিশের ছড়িয়ে থাকা শুঁড়ের মতো। চোখের পলক ফেলতেই স
লেখক: পৃথিবীনামা

রাতে দূরে কোনো বজ্রঝড় দেখছেন। মেঘের ভেতর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। হঠাৎ সেই মেঘের বহু ওপরে আকাশে কয়েক মুহূর্তের জন্য জ্বলে উঠল বিশাল লালচে আলোর শাখা, অনেকটা জেলিফিশের ছড়িয়ে থাকা শুঁড়ের মতো। চোখের পলক ফেলতেই সেটি অদৃশ্য। এই অদ্ভুত আলোর নাম Red Sprite।
এটি সাধারণ বজ্রপাত নয়। Sprite হলো Transient Luminous Event বা TLE, অর্থাৎ বজ্রঝড়ের কারণে পৃথিবীর upper atmosphere-এ সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী বৈদ্যুতিক আলোর ঘটনা। NASA-এর পর্যবেক্ষণে sprites প্রায় ৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় দেখা যায়, অর্থাৎ সাধারণ thundercloud-এর অনেক ওপরে mesosphere অঞ্চলে।
কিছু sprite কয়েক দশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অথচ এত বিশাল আলোকচ্ছটা স্থায়ী হয় মাত্র কয়েক milliseconds। তাই মানুষের চোখে সরাসরি ধরা পড়া কঠিন, আর দ্রুতগতির camera এগুলো পর্যবেক্ষণে বিশেষভাবে কার্যকর।
কিন্তু মেঘের এত ওপরে হঠাৎ আলো জ্বলে ওঠে কীভাবে? শক্তিশালী lightning discharge মেঘ ও ভূমির মধ্যে বিপুল বৈদ্যুতিক charge স্থানান্তর করতে পারে। এর ফলে thunderstorm-এর অনেক ওপরে একটি শক্তিশালী electric field তৈরি হয়। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে সেই field upper atmosphere-এর পাতলা বাতাসে electrical breakdown ঘটাতে পারে।
তখন atmospheric nitrogen উত্তেজিত হয়ে অতি অল্প সময়ের জন্য লালচে আলো নির্গত করে। এই কারণেই পৃথিবীর sprites-এর সবচেয়ে পরিচিত রং লাল।
Sprite-এর আকৃতিও সবসময় একই নয়। কখনো সেটি বিশাল লাল স্তম্ভের মতো, কখনো carrot-এর মতো, আবার কখনো নিচের দিকে অসংখ্য আলোকিত tendril ছড়িয়ে থাকা জেলিফিশের মতো দেখায়। NASA বলছে, একটি sprite cluster প্রায় ১৬ কিলোমিটার চওড়া হতে পারে এবং প্রায় ৪৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
দীর্ঘদিন এগুলো পর্যবেক্ষণ করা কঠিন ছিল, কারণ যে thunderstorm sprite তৈরি করে, সেই বিশাল মেঘই ভূমি থেকে ওপরের ঘটনাটি দেখার পথ আটকে দিতে পারে। কিন্তু International Space Station থেকে দৃশ্যটি উল্টো। মহাকাশচারীরা ওপর থেকে thunderstorm এবং তার ওপরে তৈরি হওয়া TLE দুটোই পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ২০২৪ সালের ৩ জুন ISS থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলের বজ্রঝড়ের ওপরে একাধিক red sprite-এর ছবিও তোলা হয়েছিল।
তবু sprites নিয়ে বিজ্ঞানীদের সব প্রশ্নের উত্তর এখনও জানা নেই। ঠিক কোন পরিস্থিতিতে একটি lightning event sprite তৈরি করবে, তাদের বিভিন্ন আকৃতি কেন হয় এবং atmosphere-এর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় তাদের পূর্ণ ভূমিকা কী, এসব নিয়ে গবেষণা চলছে।
আমরা সাধারণত বজ্রপাত দেখলে নিচের দিকে তাকাই, মেঘ থেকে পৃথিবীর দিকে। কিন্তু বজ্রঝড়ের গল্প সেখানেই শেষ নয়। কখনো কখনো সেই বৈদ্যুতিক শক্তির প্রভাব মেঘের বহু ওপরে, মহাকাশের প্রান্তের দিকে লাল আলো হয়ে মুহূর্তের জন্য ফুটে ওঠে।
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

বজ্রপাত যখন বালিকে কাঁচে পরিণত করে
প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে হঠাৎ একটি বজ্রপাত এসে আঘাত করল বালুময় মাটিতে। কয়েক মুহূর্ত পর বাইরে থেকে জায়গাটিকে প্রায় স্বাভাবিকই মনে হতে পারে। কিন্তু মাটির নিচে তৈরি হয়ে যেতে পারে অদ্ভুত এক প্রাকৃতিক বস্তু, দেখ
সম্পূর্ণ পড়ুন
দুই হাজার বছর টিকে থাকা রোমান কংক্রিটের রহস্য কী?
প্রাচীন Ancient Rome-এর অনেক স্থাপনা প্রায় দুই হাজার বছর পরও দাঁড়িয়ে আছে। বন্দর, জলাধার, সেতু থেকে শুরু করে বিশাল স্থাপত্যে ব্যবহৃত রোমান কংক্রিটের এই অসাধারণ স্থায়িত্ব বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলে
সম্পূর্ণ পড়ুন
এই গাছ স্পর্শের সংকেত গুনতে পারে!
কল্পনা করুন, একটি মাছি এসে বসল গাছের পাতায়। সাধারণত গাছের পাতা নড়াচড়া করে না। কিন্তু এই গাছটির পাতা যেন অপেক্ষা করছে সঠিক মুহূর্তের জন্য। মাছিটি পাতার ভেতরের একটি সূক্ষ্ম লোমে স্পর্শ করল।
সম্পূর্ণ পড়ুন