সমুদ্রের বুকে পাথরের রহস্যময় নগরী
প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে একটি দ্বীপের উপকূলে ছড়িয়ে আছে শতাধিক ছোট ছোট কৃত্রিম দ্বীপ। তাদের মাঝখান দিয়ে চলে সরু জলপথ। আর দ্বীপগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে বিশাল কালো basalt পাথরের দেয়াল, প্রাসাদ, সমাধি আর ধ
লেখক: পৃথিবীনামা

প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে একটি দ্বীপের উপকূলে ছড়িয়ে আছে শতাধিক ছোট ছোট কৃত্রিম দ্বীপ। তাদের মাঝখান দিয়ে চলে সরু জলপথ। আর দ্বীপগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে বিশাল কালো basalt পাথরের দেয়াল, প্রাসাদ, সমাধি আর ধর্মীয় স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ। এটি Nan Madol, বর্তমান Federated States of Micronesia-এর Pohnpei দ্বীপের কাছে অবস্থিত এক অসাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক নগরী।
Nan Madol কোনো প্রাকৃতিক দ্বীপের ওপর তৈরি সাধারণ শহর ছিল না। Pohnpei-এর দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের অগভীর lagoon-এর মধ্যে ১০০টিরও বেশি কৃত্রিম islet তৈরি করা হয়েছিল basalt ও coral boulder ব্যবহার করে। এই দ্বীপগুলোর ওপর নির্মিত হয়েছিল পাথরের palace, temple, mortuary এবং residential complex। UNESCO World Heritage Centre UNESCO অনুযায়ী, নগরীটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো মূলত ১২০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে গড়ে ওঠে। এটি ছিল Saudeleur dynasty-র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ceremonial centre এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপসমাজে জটিল শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রশ্ন আসে এর নির্মাণকৌশল থেকে। Nan Madol-এর দেয়ালে ব্যবহৃত হয়েছে লম্বা, প্রাকৃতিকভাবে column-এর মতো গঠিত basalt পাথর। এগুলো স্থানীয় reef থেকে পাওয়া যায়নি। UNESCO-এর গবেষণা বলছে, বিশাল basalt column-গুলো Pohnpei দ্বীপের অন্য এলাকার quarry থেকে এনে একটির ওপর আরেকটি বিশেষ header-stretcher বিন্যাসে সাজানো হয়েছিল।
আজকের crane, truck বা আধুনিক নির্মাণযন্ত্র ছাড়াই দ্বীপবাসীরা কীভাবে এত ভারী পাথর quarry থেকে lagoon-এর মধ্যে এনে স্থাপন করেছিলেন, তার প্রতিটি ধাপ আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে এটিকে কোনো হারিয়ে যাওয়া অতিপ্রাকৃত প্রযুক্তির প্রমাণ ভাবার কারণ নেই। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বরং দেখায়, Pohnpei-এর সমাজে বড় আকারের শ্রম সংগঠন, দক্ষ নির্মাণকৌশল এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছিল।
জলপথগুলোও Nan Madol-এর চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অসংখ্য islet-এর মাঝের tidal canal দিয়ে চলাচল করা যেত বলে জায়গাটিকে কখনও কখনও “Venice of the Pacific” বলা হয়।
সময় গড়িয়ে আবাসিক ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু Nan Madol হারিয়ে যায়নি। Pohnpei-এর মানুষের সামাজিক ও ceremonial tradition-এর সঙ্গে স্থানটির সম্পর্ক এখনও রয়েছে। UNESCO World Heritage Centre ২০১৬ সালে UNESCO Nan Madol-কে World Heritage Site ঘোষণা করে। একই সময় সিল্ট জমে জলপথ সংকুচিত হওয়া, mangrove-এর অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি এবং পাথরের স্থাপনার ক্ষয়ের মতো হুমকির কারণে এটিকে World Heritage in Danger তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ছোট দ্বীপে শত শত বছর আগে মানুষ শুধু একটি নগরী নির্মাণ করেনি। তারা সমুদ্রের অগভীর পানির মধ্যেই নিজেদের জন্য নতুন ভূমি তৈরি করে তার ওপর পাথরের monumental city গড়ে তুলেছিল। আর সেই শহরের ধ্বংসাবশেষ আজও জলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে।
উৎস ও আরও পড়ুন
গল্পটি শেয়ার করুন
এরপর পড়তে পারেন
এই গল্পের বিষয় ও সূত্র ধরে নির্বাচিত আরও পাঠ।

৩,৭০০ বছর আগের ক্রেতার অভিযোগ!
কল্পনা করুন, আপনি একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভালো মানের তামা কেনার জন্য টাকা দিয়েছেন। কিন্তু পণ্য নিতে গিয়ে দেখলেন, প্রতিশ্রুত মানের তামা দেওয়া হচ্ছে না।
সম্পূর্ণ পড়ুন
দুই হাজার বছর আগের এই যন্ত্র কীভাবে আকাশের হিসাব রাখত?
সমুদ্রের তলায় প্রায় দুই হাজার বছর পড়ে ছিল কিছু ক্ষয়ে যাওয়া ব্রোঞ্জের টুকরো। প্রথম দেখায় সেগুলোকে অসাধারণ কিছু মনে হওয়ার কারণ ছিল না। কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে ছিল একের পর এক সূক্ষ্ম দাঁতওয়ালা gear। যন্ত্রটি
সম্পূর্ণ পড়ুন
সমুদ্রের নিচে হারানো প্রাচীন মিশরের বন্দরনগরী
কল্পনা করুন, প্রাচীন মিশরের একটি ব্যস্ত বন্দর। দূরদেশ থেকে জাহাজ আসছে, বণিকেরা পণ্য নামাচ্ছেন, মন্দিরে চলছে ধর্মীয় অনুষ্ঠান। নীলনদের মোহনায় গড়ে ওঠা শহরটি তখন ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্
সম্পূর্ণ পড়ুন